অায়ুর্বেদশাস্ত্রের প্রাচীন চিকিৎসা সেবা নিন,, সুস্থ থাকুন।কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
চিকিৎসা পেতে ফোন করুন®01818-188845®

গাছ-গাছড়ার সাহায্যে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উপায় কি কি ?.

অনেক দেশের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে গাছ-গাছড়ার সাহায্যে চিকিৎসা করা একটি অন্যতম প্রাচীন পদ্ধতি । বর্তমানে আধুনিক যুগেও এখন আমরা তার ব্যবহার করে থাকি । প্রাচীন কালে মুনি-ঋষিরা সেই সব গাছের গুনাগুণ জেনে তার ব্যবহার করতেন । এখন আমরা জানবো যে – সেই সব গাছ গাছড়ার ব্যবহার দ্বারা কিভাবে আমরা ঘরোয়া ভাবে কিছু রোগের চিকিৎসা করতে পারি । সমস্ত টা জানতে আশা করি আমাদের লেখাটি শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়বেন ।

১) সাধারণ জ্বর – সাধারণ জ্বর আমাদের বিভিন্ন কারণে হয় যেমন – অত্যধিক পরিশ্রম, রাত্রি জাগা, ঋতু পরিবর্তন, আঘাত লাগা, ঠাণ্ডা লাগা ইত্যাদি । এই রোগের লক্ষণ হিসাবে – মাথা ব্যথা, নাড়ীর গতি দ্রুত হওয়া, খাবারে অরুচি, অস্থিরতা, গরম বা শীত অনুভব করা, পিপাসা ইত্যাদি । ৫ গ্রাম তুলসী পাতার রস, ১ চামচ মধু, সামান্য মকরধ্বজ ও ৫ গ্রাম শিউলি পাতার রস মিশিয়ে নেবেন । দিনে তিনবার করে তিনদিন খাবেন । ডাল, সবজি, দুধ, আটার রুটি জাতীয় খাবার খাবেন ।
২) সর্দি-জ্বর – জলে ভিজলে, ঠাণ্ডা লাগলে, সর্দি-জ্বর হয়ে থাকে । গায়ে জ্বর জ্বর ভাব, নাক দিয়ে জল পড়া, বুক ব্যথা, হাঁচি প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ । ১০ গ্রাম বাসক পাতার রস, ১০ গ্রাম শিউলি পাতার রস, ১০ গ্রাম তুলসী পাতার রস, ২ চামচ মধু মেশান । প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় তিন-চার দিন খাবেন । এছাড়া আদা, পেঁয়াজ, রসুন তেল দিয়ে ভেজে গরম ভাতের সাথে খেতে পারেন ।
৩) সর্দি ও কাশি – এই রোগের ফলে বুক ব্যথা, গলা খুসখুস, হাঁচি, কাশি ইত্যাদি দেখা যায় । হঠাৎ করে গরম থেকে ঠাণ্ডায় বা ঠাণ্ডা থেকে গরম লাগা, ঠাণ্ডা লাগা, জলে ভেজা ইত্যাদির কারণে আমাদের সর্দি ও কাশি হয় । ৪ গ্রাম তুলসী পাতা, ৪ গ্রাম আদা, বাসক পাতা ৪ গ্রাম, তেজপাতা ৩ গ্রাম, বচ ৩ গ্রাম, পিপুল ৩ গ্রাম নিয়ে ৩-৪ কাপ জলে সিদ্ধ করুন । হালকা গরম করে সেই জল পান করুন । ৫ দিন দুবেলা করে খাবেন । আরেক টি পদ্ধতি – তুলসীর মঞ্জুরি ১০ গ্রাম, বাসক পাতা ১০ গ্রাম নিয়ে ২৫০ গ্রাম জল নিয়ে তাতে ফোটাবেন । ১০০ গ্রামের মত জল হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিন । এরপর এর সাথে ৪ চামচ মধু মেশান । পরপর ৫ দিন দিনে দিনে দুবার করে খাবেন ।
৪) বমি – আমাদের যদি খাওয়ার অভ্যাসের বদল ঘটে তাহলে বমির সম্ভাবনা দেখা যায় । অসময়ে খাবার খাওয়া, বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া, অজীর্ণতা, কৃমিদোষ ইত্যাদি থাকলে আমাদের বমি দেখা যায় । ১০ গ্রাম হরিতকী, ১০ গ্রাম গুলঞ্চ, ১০ গ্রাম গোলমরিচ ও ১০ গ্রাম পিপুল ভালকরে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে । এরপর এগুলোকে গুঁড়ো করে নিতে হবে । এর সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুবার খেতে হবে । গুরুপাক জাতীয় খাবার খাবেন না ।
৫) চুলকানি ও পাঁচড়া – আমাদের শরীর অপরিষ্কার থাকার জন্য আমাদের এই রোগ দেখা দেয় । প্রথমে ঘামাচির মত ছোটো ছোটো ফুসকুড়ি দেখতে পাওয়া যায় । সেগুলি চুলকোয়, পরে বড়ো হয়ে ঘা হয়ে ফোস্কার মত হয়ে যায় । নিম পাতা সেদ্ধ করে সেই জল দিয়ে চুলকানি পাঁচড়ার জায়গাগুলোকে ভাল করে পরিষ্কার করে নিন । তার আগে আপনি – কর্পূর ২ গ্রাম, ২ গ্রাম সলিস্যালিক অ্যাসিড, গন্ধক গুঁড়ো ২ গ্রাম, ভেসলিন ৫০ গ্রাম, চালমুগরা তেল ১০ গ্রাম মিশিয়ে একটি মলম বানান । প্রতিদিন একবার করে লাগাবেন ।
৬) পেট ব্যথা – পেটে যদি আমাশয়, কৃমি থাকে খাবার হজম না হলে বায়ু তৈরি হয়ে পেটে ব্যথা হতে পারে । হরিতকী ১০ গ্রাম, জোয়ান ১০ গ্রাম, সৈন্ধব লবণ ১০ গ্রাম, শুঁঠ ১০ গ্রাম নিয়ে গুঁড়ো করে নিন । দুপুর ও রাত্রে খাবার পর ১ চামচ গুঁড়ো এক গ্লাস জলে দিয়ে খাবেন ।
৭) নখকুনি – আমাদের নখের কনে যদি ময়লা জমে বা নখের মাংস অংশ দূষিত হয়ে যায় তাহলে আমাদের নখকুনি হতে পারে । পরে দেখা যায় যে সমস্ত নখটি নষ্ট হয়ে যায় । নিমফল ২০-২৫ টি, হরিতকী ২ টি, হলুদ রস ১০০ মিলিগ্রাম । হলুদের রসের সাথে হরিতকী বেটে নিন, হালকা গরম করবেন । ১ ঘণ্টা অন্তর দিনে ২-৩ বার লাগান ।
৮) কান পাকা ও যন্ত্রণা – ঠাণ্ডা লাগলে, কানে জল ঢুকলে কানপাকা রোগ হয় । রসুনের রস হালকা গরম করে দু-ফোঁটা কানে কয়েক দিন দেবেন । কানে যন্ত্রণা হলে দু-ফোঁটা রসুন ও পেঁয়াজের রস হালকা গরম করে দিনে দুবার দেবেন ।
৯) ব্রণ ও মুখে কালো দাগ – কাঁচা হলুদের রস ১ চামচ, চিনি ১ চামচ, নিম পাতার রস ১ চামচ এক মাস খালি পেটে সকাল বেলা খাবেন । ১ চামচ মুলতানি মাটি, আধ চামচ নিমপাতা বাটা, গোলাপ জল, আধ চামচ তুলসী পাতা বেটে সারা মুখে মাখুন । মুখে কালো দাগ থাকলে – মুসুরির ডাল বেটে দুধ দিয়ে মুখে লাগালে মুখের কালো দাগ কমে যায় ।
১০) মাথা ধরা, মাথা ঘোরা – ঠাণ্ডা লাগা, মাথায় রক্তাধিক্য, স্নায়বিক দুর্বলতা, রাতজাগা, নেশা করা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে । আবার আপনার যদি অন্য কোনও রোগ থাকে তাঁর ফলে এই রোগ হতে পারে । আগে আপনাকে আপনার অন্য রোগের চিকিৎসা করানো দরকার । দু-ফোঁটা রসুনের রস নাকে টানলে আরাম পাওয়া যায় । স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অবশ্যই দরকার ।

নারী পুরুষের যাবতীয় রোগের সু- চিকিৎসা করা হয়।
কবিরাজ শ্রীবটন নাথ।মোবাইল–01818-188845